এস্ট্রলজিতে মনে করা হয় প্রতিটি মানুষের ওপর গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। সময় দেখার জন্য যেমন ঘড়ি রয়েছে তেমনি রয়েছে প্ল্যানেটারি ওয়াচ। রাশিমণ্ডলের কোন জায়গায় কোন কোন গ্রহ নক্ষত্র রয়েছে তা দেখা হয় প্ল্যানেটারি ওয়াচের মাধ্যমে। কেউ কেউ একে কোষ্ঠী/ঠিকুজি/হরস্কোপ/রাশিচক্র বলে থাকেন।

হরস্কোপ তৈরি করার জন্য আপনার সঠিক জন্মতারিখ, জন্মসময় ও জন্মস্থান কোথায় তা দিতে হয়। যেমন একজন জাতক/জাতিকার জন্মতারিখ ও সময় হচ্ছে ১ জুন ১৯৬৫, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট। জন্মস্থান ঢাকা।

আমরা জানি প্রতিটি জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ আলদা। ঢাকা ও বরিশালের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কখনো এক হবে না। প্রতিমুহূর্তে গ্রহ ও নক্ষত্ররাশি নিজনিজ কক্ষপথে চলছে। হরস্কোপ তৈরির সময় জন্মকালীন ও বর্তমান সময়ের গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান জানার জন্য এ তথ্যগুলোর দরকার হয়।

রাশিচক্রে মোট ১২টি ঘর থাকে। একেকটি ঘরের ডিগ্রিগত অবস্থান হচ্ছে ৩০ ডিগ্রি। ১২টি রাশিতে মোট ৩৬০ ডিগ্রি। ভারতীয় পদ্ধতিতে রাশি নির্ণয় করা হয় চন্দ্রের অবস্থান থেকে। চন্দ্র একেকটি রাশিতে থাকে গড়ে সোয়া দুই দিন করে। যেমন আজ চন্দ্র আছে বৃষ রাশিতে। তাই কারও যদি চন্দ্র বৃষ রাশিতে থাকাকালীন জন্ম হয় তাকে বলা হয় সে বৃষ রাশির জাতক বা জাতিকা। এক্ষেত্রে বলা হয় চন্দ্র রাশি। যদিও পাশ্চাত্য পদ্ধতিতে সূর্যের অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।  সূর্য একেকটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে গড়ে ৩০ দিন বা একমাস। যেমন ২১শে মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল সময়ের মধ্যে যদি কারও জন্ম হয় তবে তাকে বলা হয় মেষ রাশির জাতক/জাতিকা। অর্থাত তার মধ্যে মেষ রাশির প্রভাব বেশি থাকবে। ভারতীয় রাশিচক্র হয় চন্দ্র রাশিভিত্তিক। পাশ্চাত্য রাশিচক্র হয় সূর্য রাশিভিত্তিক। সোয়া দুই দিনে চন্দ্র একটি রাশি অতিক্রম করে। আর রবি একেকটি রাশি অতিক্রম করে গড়ে ৩০ দিনে।

ভারতীয় পদ্ধতিতে রাশিচক্র বিচারে শুধু জন্মছক বিচার করা হয় না। পাশাপাশি দেখা হয় নাক্ষত্রিক অবস্থান। এছাড়াও নবতারা চক্র, নবাংশ, দ্রেক্কান, দশমাংশ, দ্বাদশাংশ, ষন্নাঢ়ীচক্র ছাড়াও অনেক ধরনের ছক রয়েছে যা বিচার করা হয়। তবে মূল ছক ঠিক না হলে বাকি সবছকই বৃথা। সূক্ষ বিচারের জন্য অন্যান্য ছকগুলো বিচার করা হয়।