বেঁচে থাকার জন্য আমরা কতকিছুইনা করি। কেউ করি চাকুরি কেউবা ব্যবসা। স্বাধীন পেশার প্রতিও এখন মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে।অবশ্য এজন্য অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ পরিশ্রমগুলো হয় চেয়ার টেবিল কেন্দ্রিক। বিশেষ করে  ক্নাস, অফিস, পড়াশোনা, গবেষণা করতে করতে আমরা ব্যক্তি আমির যত্ন নিতে ভুলে যাই। ফলে জীবনে যখন সাফল্য ধরা দেয় তখন মনোদৈহিকভাবে অসুস্থতার কারণে সে আনন্দকে উপভোগ করতে পারি না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাতে পায়ে ব্যথা, গ্যাসট্রিক, মাইগ্রেন এমন আরও অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। অথচ নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা অল্প কিছু কাজ করলে আমরা এগুলো থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারি। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মনোদৈহিক সুস্থতা

মন এবং দেহ এই দুইয়ে মিলিয়ে আমরা মানুষ। মনোদৈহিক সুস্থতার জন্য দরকার নিয়মিত শরীর ও মনের ব্যায়াম। শরীর সুস্থ রাখতে আমরা প্রতিদিন কত রকমের খাবার গ্রহণ করি। অথচ অনেকেই আমরা ব্যায়াম করি না। নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীর চর্চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীরের গঠন মজবুত হয়।  শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াও চলে সুন্দরভাবে। রোগাক্রান্ত হওয়ার আশংকাও অনেক কমে যায়। দিনে বা রাতে যখনই সুযোগ পান কিছু সময় ব্যায়াম করুন। আপনি ঘরে বসে, বিছানায় শুয়ে, চেয়ারে বসে এমনকি হাটতে হাটতে ব্যায়াম করতে পারেন। অবশ্য যদি আপনার সে কৌশলগুলো জানা থাকে। ঢাকাসহ সারা দেশে এবং বিদেশে প্রচুর ব্যায়াম শিক্ষার প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। আপনার সুবিধামতো জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়মিত চর্চা শুরু করতে পারেন।

শরীর চর্চা শুধুমাত্র শরীর সুস্থ রাখে না, মন ও ভালো রাখে। আমরা জানি মানসিক সুস্থতা শারীরিক সুস্থতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শরীর ও মন নিয়েই আমরা মানুষ। মন ভালো তো সব ভালো। তাই মনোদৈহিক সুস্থতার জন্য দরকার মনের ব্যায়াম। মনের অস্থিরতা কমাতে পারে ধ্যান বা মেডিটেশন। ধ্যান অস্থির মনকে স্থির ও শান্ত করে। বাড়ায় মনের শক্তি। আর মানসিক শক্তি দেহের যে কোনো সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করে।

নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের অবসরে কিছু সময়ের জন্য শরীর চর্চা করুন। পাশাপাশি অন্তত ৫ মিনিটের জন্য ধ্যান করুন। এতে মন প্রফুল্ল থাকবে। যাদের ব্যায়াম করা হয় না তারা অন্তত কিছু সময় শারিরীক পরিশ্রম করুন। আমরা জানি মানসিক শ্রম মনের শক্তি বাড়ায়। আর কায়িক বা দৈহিক শ্রম দেহের শক্তি বাড়ায়। শরীর সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারিরীক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সুস্থ জীবনের জন্য দুটোরই প্রয়োজন আছে। কেননা একটা ডানায় ভর করে পাখি উড়তে পারে না।

জীবনের সবক্ষেত্রেই দরকার ভারসাম্য। যাতে জীবনকে উপভোগ করা যায়।