যারা হাত দেখেন তাদেরকে বলা হয় পামিস্ট বা হস্তরেখাবিদ। অনেকেই এস্ট্রলজি বলতে শুধু হাত দেখানোকেই মনে করেন। যদিও এটা এস্ট্রলজির একটা অংশমাত্র। হস্তরেখা বিচার নাম হলেও এখানে শুধু হাতের রেখা বিশ্লেষণ করা হয় না। হাতের রং, নখের গড়ন, হাতের গঠন এমন অনেকগুলো বিষয় দেখা হয়। এস্ট্রলজি কিংবা হস্তরেখা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাগ্যের কথা বলা যায় না। যা বলা হয় তা হলো পূর্বাভাস। কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে হবে কিংবা ঘটবে এটা বলা যায় না। তবে অনেক ক্ষেত্রে হাতের গড়ন ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিচার করে অনেক রোগব্যাধি সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হতে পারেন। হাতে এমন কিছু চিহ্ন থাকে যা দেখে ক্যান্সার, লিভার, কিডনি সমস্যা সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। এ বিষয়গুলো মেডিকেল এস্ট্রলজির অংশ।

একজন মানুষের শারিরীক ও মানসিক অবস্থা, চিন্তা ও কর্মে তার গতিপ্রকৃতি, সাফল্য ও ব্যর্থতার অনেক কিছুই হাত দেখে বলা যায়। অবশ্য এ বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। যেমন যার কাছ থেকে আমি এ বিষয়ে শিখেছি তিনি হস্তরেখা বিচার করে বিভিন্ন রোগব্যধি এমনকি ক্যান্সার সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতেন। সাধারণত এ ধরনের রোগ ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে এসে। যখন আর কিছু করার থাকে না। অবশ্য তিনি বিষয়টা ঘুরিয়ে বলতেন এবং সচেতন করে দিতেন। তিনি বলতেন শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকবা। তোমার শরীরে এমন কোনো রোগ বাসা বাঁধতে পারে যেটা সাধারণত অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। শরীরের কোনো সমস্যাকে কখনো অবহেলা করবা না।  আরও কিছু দিকনির্দেশনা দিতেন। জ্যোতিষশাস্ত্র গবেষণায় তার অভিজ্ঞতা ৫০ বছরেরও বেশি।

সবার সামনে হস্তরেখা বিশ্লেষণের জন্য হাত বাড়ানো ঠিক নয়। প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় এখান থেকে চলে আসে। আর তাই কখনো বন্ধু/বান্ধবীর সামনে কখনো নিজের হাত দেখার জন্য কাউকে অনুরোধ করবেন না।  একজন এস্ট্রলজার কিংবা মনস্তাত্বিক পরামর্শদাতা আপনাকে কিছু বিষয়ে সুপরামর্শ দিতে পারেন মাত্র। আপনার ভাগ্য পরিবর্তন ও ভাগ্যোন্নয়ণে আপনাকে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। অতীত ভুলের পুণরাবৃত্তি না করে দক্ষতা ও সততার সাথে যখন আপনি কর্মে নিয়োজিত থাকবেন সাফল্য অর্জন আপনার জন্যে সহজ হয়ে যাবে। যাদের কর্মের হাত তারা অন্যদের চেয়ে সহজে সাফল্য পান। পরিকল্পিত কর্মই হচ্ছে ভাগ্যোন্নয়ণের পথ।