শনির সাড়ে সাতি 

শনি গ্রহ যখন জন্মকালীন চন্দ্ররাশির দ্বাদশ, প্রথম ও দ্বিতীয় ঘর অতিক্রম করে এ সময়কালকে শনির সাড়ে সাতি বলা হয়। রাশিচক্রে শনি একেক রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে আড়া্ই বছর। তিনটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে মোট সাড়ে সাত বছর। এই সাড়ে সাত বছরকে বলা হয় শনির সাড়ে সাতি।


শনির সাড়ে সাতিতে কি হয়?

শনির সাড়ে সাতি কথাটি শুনলেই অনেকে ভয় পান। কারণ শনিকে বলা হয়  বিলম্বকারক ও বাধাকারক গ্রহ।  শনির সাড়ে সাতি মানেই কর্মে বাধা, পেশাগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে ভুলবোঝাবুঝি কিংবা আর্থিক সমস্যা  এমন অনেক কিছুই ঘটতে পারে। সবারক্ষেত্রে যে এমনটা ঘটবে তা কিন্তু নয়। যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর চন্দ্র রাশি বৃশ্চিক। বর্তমানে শনিগ্রহ ধনু রাশি অতিক্রম করছে। ধনু রাশি বৃশ্চিক রাশির দ্বিতীয় রাশি। সাড়ে সাতি সময়ের মধ্যেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং সাফল্যের সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন।

বাস্তবতা হচ্ছে এ সময়ে জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। অনেকেই কর্মগুণে সাফল্যের শিখরে ওঠেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এ সময়ে পেশা কিংবা কর্মস্থল পরিবর্তন হতে দেখা যায়।  আবার এ সময়ে মায়ের শরীর স্বাস্থ্যও খুব একটা ভালো যায় না। শনির সাড়েসাতি ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। এটা সবার জীবনেই আসে। এ সময় হচ্ছে নিজেকে সততা ও দক্ষতার সাথে সুন্দর আগামীর জন্য প্রস্তুতির নেওয়ার। যারা আগে থেকে সততা সাথে জীবনযাপন করতেন তাদের জন্য এ সময় অতটা ক্ষতিকর হয় না। যারা অসৎ উপায়ে জীবনযাপন করেন তাদেরকে এ সময়ে অতীতের ভুলের মাশুল দিতে হয়।

এ সময়ে যা কিছু করবেন না

কারও সঙ্গে তর্ক বিতর্কে জড়াবেন না।

পরিপূর্ণ সততার সাথে জীবনযাপনের চেষ্টা করুন।

কারও ক্ষতির চেষ্টা কিংবা চিন্তাও করবেন না।

সবসময় নিজের ও অন্যের জন্য প্রার্থনা করুন। সাধ্যমতো ভালো কাজ করুন।

নিজের সাধ্যের অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

মায়ের শরীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখুন। এ সময়ে মায়ের শরীর কম ভালো যেতে পারে।

কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক  বজায় রাখুন।

যতটুকু সম্ভব ঋণমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

রাগ কিংবা অভিমান নয়, ধৈর্যের সাথে যে কোনো পরিবেশ ও পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।