যাদের জন্মছকে লগ্নের প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম ও দ্বাদশ গৃহে মঙ্গল অবস্থান করে তাদেরকে মাঙ্গলিক বলা হয়। বিশেষ করে যাদের জন্মছকে মাঙ্গলিক দোষ থাকে তাদের বিবাহিত জীবনে নানারকম ঝামেলা লেগেই থাকে। দুজনের মধ্যে মতের অমিল থাকে। অনেক সময় দেরিতে বিবাহ হতেও দেখা যায়। আবার বিয়ে হলেও দুজন আলাদা থাকতে দেখা যায়। তা হতে পারে পেশাগত কারণে কিংবা দাম্পত্য অশান্তির কারণে। সহজ কথায় মাঙ্গলিক থাকলে সাধারণত দাম্পত্য সুখ কম থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে মাঙ্গলিক থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে দেখা যায়। কারও কারও একাধিক বিয়ে হতেও দেখা যায়। তবে একজন মাঙ্গলিক পাত্রের সাথে মাঙ্গলিক পাত্রীর বিবাহ এ অশুভ যোগ কাটিয়ে দেয়।

 লগ্নে মঙ্গল

এরা সাধারণত জেদি হয়। কখনো কখনো এদের মধ্যে উগ্রতা দেখা যায়। সবসময় নেতৃত্ব করতে চায়। সে ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক। যথেষ্ট সাহসী হয়ে থাকে। যদি মঙ্গল নিচস্থ থাকে তবে নিজের বুদ্ধিতে প্রভাবিত না হয়ে অন্যের কান কথায় প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যের ক্ষতি করার আশংকা থাকে। পরবর্তীতে অনুশোচনা করতে দেখা যায়। এদের বিশেষ সমস্যা হচ্ছে এদের মাথা একটু গরম থাকে বলে আশেপাশের লোকজন মনে করেন। যে কারণে সবাই তাদের সঙ্গে মেশে না। কিছু মানুষ তাদেরকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। আবার কিছু মানুষ তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। আর জাতক যখন জানতে পারেন যে তাকে ব্যবহার করে অন্যরা নিজের স্বার্থ উদ্ধার করছে তখন আর কিছু করার থাকে না।

লগ্নের দ্বিতীয়ে মঙ্গল

লগ্নের দ্বিতীয়ে মঙ্গল থাকলে এরা কড়া ভাষায় কথা বলে। স্থান কাল পাত্র ভেদে বলতে না পারলে এদের দাম্পত্য সম্পর্ক নয় কোনো সম্পর্কই ভালো যায় না। এ যোগ আত্মীয়ের সাথে সম্পর্কে অবনতি, দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও হানিকর হিসেবে মনে করা হয়। তবে এরা স্পষ্টভাষী হন। যা বলার সামনেই বলেন। পেছনে কথা বলা এদের পছন্দ নয়। অপ্রিয় সত্য বলতে গিয়ে অনেক সুন্দর সম্পর্ক ভেঙ্গে যেতে দেখা যায়। তবে এরা নেতা হিসেবে ভালো হতে পারেন। তর্কে এরা হারলে যে কোনোভাবে তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞ হন। আর তাতেই ভুলবোঝাবুঝির আশংকা তৈরি হয়।

লগ্নের  চতুর্থে মঙ্গল

চতুর্থস্থানকে বলা হয় গৃহ সুখের স্থান। যাদের জন্মছকে লগ্নের চতুর্থে মঙ্গল থাকে তাদের পারিবারিক সুখশান্তি কম থাকে। এ ধরনের জাতক জাতিকারা সাধারণত পরিবারে ভুলবুঝাবুঝির শিকার হন। নিজগৃহেও এরা শান্তি পান না। সবসময় মানসিক অশান্তি তাড়া করে বেড়ায়। জীবনের কখনো কখনো এদেরকে নিজের কিংবা পরিবারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা করতে হয়।

লগ্নের সপ্তমে মঙ্গল

সপ্তম ঘরকে বলা হয় বিবাহিতদের দাম্পত্যের ঘর। যাদের জন্মছকে সপ্তমে মঙ্গল থাকে তাদেরকে মাঙ্গলিক বলা হয়। বলা হয়ে থাকে এ কারণে তাদের  দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। প্রায়ই তর্ক, ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে এরা নিজের প্রভাব প্রমাণ করতে চায়। নিজেকে কখনো ছোট হতে দেন না। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় জীবন সঙ্গীনির ওপর অধিক কর্তৃত্ব আরোপ করতে। এতে করে হিতে বিপরীত হতে দেখা যায়। নিজ ভুলের জন্য অনেকের সংসার ভেঙ্গে যেতে দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যায় জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনীর শরীরের অস্ত্রোপচার হতে। কিংবা চিকিতসাজনিত কারণে প্রায়ই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলার প্রয়োজন হয়।

লগ্নের অষ্টমে মঙ্গল

অষ্টমে মঙ্গল কারও কারও ক্ষেত্রে সুখকর হয় না। অগ্নি থেকে মৃত্যুভয় কিংবা ধারালো বস্তুর আঘাত কিংবা রক্তপাত হতে দেখা যায়। কারও কারও রক্তাল্পতা, উচ্চরক্তচাপ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে দেখা যায়। গ্রহের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে এদের কারও কারও অত্যাধিক যৌণ চাহিদা থাকে। বিপথে যাওয়ার আশংকা থাকে। দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ সংশয় এমন অনেক কিছুই এদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধার কারণ হয়ে দাড়ায়। কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তবে নিজের প্রবৃত্তিকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাদের হিসেব ভিন্ন। তবে সে ধরনের লোকের সংখ্যাও খুবই কম। তবে অষ্টমে মঙ্গল পারিবারিক সুখশান্তির ক্ষেত্রে বাধার কারণ হতে পারে। আইনগত অসুবিধা, মামলা মোকাদ্দমা, পেশীশক্তির দাপট এমন অনেক কিছুই হতে দেখা যায়।

লগ্নের দ্বাদশে মঙ্গল

লগ্নের দ্বাদশ স্থানকে বলা হয় শয্যাস্থান। এ স্থানে মঙ্গল থাকাকে মাঙ্গলিরক বা অশুভ   বিবেচনা করা হয়। এদের শরীরে রক্তপাত কিংবা জীবনের কোনো না কোনো সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যায়। দ্বাদশে মঙ্গল কারও কারও বিকৃত যৌন চাহিদা বৃদ্ধি করে। আবার কারও কারও যৌন অনাগ্রহ তৈরি করে। উভয়ই দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এতে করে সম্পর্কে ভাঙন ঘটতে দেখা যায়।  অনেকের বিয়ে দেরিতে হতে দেখা যায়। যেসব মহিলার চার্টে দ্বাদশে মঙ্গল থাকে তাদের বিশেষভাবে সচেতন থাকা উচিত। যাতে করে কোনো ভুল সম্পর্কের কারণে জীবনে অশান্তি তৈরি না হতে পারে।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যারা সংযমী ও পরিমিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত  ও নিজস্ব ধর্মমতে ধর্মাচার পালন করেন তাদের ক্ষেত্রে এর অনেক কিছু নাও ঘটতে পারে। ধর্মীয় সচেতনতা মাঙ্গলিক সমস্যা থেকে উত্তরণে সহায়ক হতে পারে।