কিছুদিন আগে একভদ্রলোক আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে বললেন আমাকে এমন একটা রত্নপাথর দিন যে পাথর ব্যবহার করলে আমি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ধনী হয়ে যাবো।  আমার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তার কথাশুনে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে গেলাম আর মনে মনে হাসলাম। আর বললাম সেটা যদি সম্ভব হতো তবে আমিতো সারাদিন হাতে বিভিন্ন ধরনের রত্ন পাথরের আংটি পরে বসে থাকতাম। আপনাকে পরামর্শ দিয়ে ফি নেওয়ার প্রয়োজন হতো না।

আসলে রত্নপাথর মহান সৃষ্টিকর্তার দান ও বিশেষ নেয়ামত স্বরূপ। সঠিক রত্নপাথর ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়, যারা রত্নপাথর ব্যবহার করেন তারা জানেন রত্নপাথর কীভাবে দেহ মনের ওপর প্রভাব ফেলে । তার মানে এইনয় যে রত্নপাথর ব্যবহার করলে দুনিয়ার সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বাস্তব সত্য হচ্ছে আপনাকে আপনার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। আপনি যদি ভালো কাজ করেন ভালো ফল পাবেন। মন্দ কাজ করলে মন্দ ফল পাবেন। এক্ষেত্রে দুহাত ভরে পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য রত্ন পরলেও কাজ হবে না।

এস্ট্রলজিতে অধিকাংশ জ্যোতিষি রত্নপাথর প্রতিকার হিসেবে দিয়ে থাকেন। যেমন রবি অশুভ হলে রুবি, চন্দ্র অশুভ হলে মুক্তা অথবা মুন স্টোন, মঙ্গল অশুভ হলে রক্তপ্রবাল, বুধ অশুভ হলে পান্না. শুক্র অশুভ হলে ডায়মন্ড/হীরা, বৃহস্পতি অশুভ হলে পোখরাজ, শনি অশুভ হলে নীলা, রাহুর প্রতিকার গোমেদ, কেতুর প্রতিকার ক্যাটস আই দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ বলেন যে, জীবনে অনেক ঝড় ঝাপটা আসে। রত্নপাথর বিপদ আপদে ছাতার মতো কাজ করে। কিছুটা হলেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

রত্নপাথর কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের মতো কাজ করে।  মেডিকেল এস্ট্রলজিতে রত্নপাথর ব্যবহারের বিশেষ উপকারিতা লক্ষ করা যায়। শরীর ও মনের ভারসাম্য আনতে রত্মপাথর সুন্দর কাজ করে। তবে আজকাল বাজারে যেহারে নকল রত্ন পাওয়া যায় আসল রত্ন চেনাও কঠিন, পাওয়াও কঠিন।

অশুভ গ্রহের প্রতিকারের জন্য আপনাকে রত্ন ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। যার ভালো লাগে ব্যবহার করবেন। তবে নকল রত্ন ব্যবহার করার চেয়ে না করাই ভালো। আর যে কোনো রত্মপাথর ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এস্ট্রলজারের পরামর্শ নিন। কিছু কিছু রত্ন ব্যবহারে অপকার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই জেনে বুঝে রত্ন ব্যবহার করুন।