জীবনযাপনের রয়েছে হাজারে সূত্র। কেউ অনুসরণ করে চলেন। কেউবা নিজের খেয়ালখুশি মতো চলেন। কর্মময় জীবনের মাধ্যমে কেউ সফল হন। আবার কেউবা হন ব্যর্থ। পার্থক্য কর্মকৌশলে। কিছু মানুষ তুলনামূলক অল্প পরিশ্রম করে অনেক সাফল্য পায়। আবার কিছু মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করেও তেমন ফল পান না। এর মূল পার্থক্য এখানেই। আপনি কতটা সফল হবেন তা নির্ভর করে আপনার দূরদৃষ্টির ওপর।  ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া  ভাবিও না। কথাটি যেমন ঠিক তেমনি ভাবতে ভাবতে জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করাও ঠিক নয়। সফল মানুষেরা নিয়মিত কিছু বিষয় মেনে চলেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

 

রুটিন অনুসরণ

 

প্রতিদিনকার কাজ যদি একটি রুটিন অনুসরণ করে করা হয় তবে সহজেই কাজের ফলাফল আপনার দৃশ্যমান হবে। পৃথিবীর সবকিছুই সময়ের হিসেব মতো চলে। যেমন প্রতিদিন সূর্য উদয় ও সূর্যাস্তের একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। সূর্য কখনো তার নির্ধারিত সময়ের আগে কিংবা পরে উদয় কিংবা অস্ত যায় না। প্রকৃতির দিকে তাকালেও আমরা দেখি একই নিয়ম। পাখিরা ভোরে ওঠে আবার সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরে যায়। প্রকৃতি ও জীবনের মধ্যে রয়েছে দারুন ছন্দ। এ ছন্দে নিজের জীবন রাঙাতে পারলে জীবন সফল ও উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আজ কখন কি করবেন, কোথায় যাবেন, কারসঙ্গে দেখা করবেন, কোন কাজের পর কোন কাজ করবেন তা একটি কাগজে লিখে রাখুন। একটি একটি করে প্রতিটি কাজ শেষ করুন। দিনশেষে কাগজটি হাতে নিয়ে দেখুন। প্রথম দিনে আপনি কতটা রুটিন অনুসরণ করতে পেরেছেন। আত্মপর্যালোচনা করুন। পরবর্তী দিনের রুটিন তৈরি করে ঘুমিয়ে পড়ুন।  সপ্তাহ পেরুনোর আগেই আপনি নিজের মধ্যেকার পরিবর্তনগুলোকে উপলব্দি করতে পারবেন।

 

নিদ্রা

ঘুম সবার জন্য খুবই প্রয়োজন। আপনি যদি সুখনিদ্রায় যেতে না পারেন তবে জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারবেন না। এর কারণ হচ্ছে আপনার ঘুম ঠিকমতো না হলে চিন্তাশক্তি ও কর্মশক্তি দুটোই ধীরে ধীরে কমে যাবে। একটা সময়ে আপনি হয়তো অনেক অর্থ সম্পদের মালিক হবেন তবে জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন না। এর কারণ হচ্ছে অনিদ্রা। ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম পায়। শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমগুলো ভালো থাকে। শরীর ও মন কিছু সময়ের জন্য সব ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পায়। রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে। অনিদ্রায় বাড়ে রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যা। স্থুলতা, স্ট্রোকের ঝুকি, শরীরের হাড় ক্ষয় এমন অনেক রোগের ঝুকি বেড়ে যায়। আর তাই প্রতিদিন রাত ১১টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা গভীর ঘুম আপনার প্রাণশক্তিকে বাড়িয়ে দেবে। অধিকাংশ সময় রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিভি সিরিয়াল দেখে সময় কাটাই এতে ঘুমের ক্ষতি হয়। ফলে দিনের কাজে আশানূরূপ অগ্রগতি হয় না। আর তাই ঘুম হোক পরিমিত।