হতাশা বা মানসিক চাপ কম বেশি সবাইকে প্রভাবিত করে। একজন মানুষ  যখন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঙ্ক্ষিত চাহিদা মেটাতে না পেরে  হতাশ হন তখন জ্যোতিষির শরণাপন্ন হন।  জানতে চান কখন সুদিন আসবে কিংবা এ থেকে উত্তোরণ ঘটবে। এস্ট্রলজি হচ্ছে এমন একটি শাস্ত্র যা দিয়ে সময়ের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে করিয়ে দিচ্ছি জ্যোতিষ শাস্ত্র সম্ভাবনার কথা বলে, কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে হবে কিংবা ঘটবে তা বলে না।

জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু সূত্র রয়েছে যা দিয়ে হতাশাগ্রস্ত কিংবা মানসিক চাপ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মানুষের দেহ মনের ওপর পরিবর্তন আসে। যেমন গোচরে চন্দ্র যদি (ভারতীয় মতে) কারও জন্ম রাশি থেকে ২,৪,৮,১২ রাশিতে থাকে তবে ওই সময়ে কিছুটা হলেও মানসিক চাপ বাড়ে। যদিও পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাহীন জীবনযাপন হতাশা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান থেকে ও বিষয়ে কিছু পূর্বাভাস পাওয়া যায় যা দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীর ও মনে প্রভাব ফেলে। সে বিষয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

> আপনার লগ্নপতি কিংবা জন্মকালীন ছকে চন্দ্র যদি দুর্বল হয় তবে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

লগ্ন , পঞ্চম স্থান  কিংবা একাদশ স্থানে যদি শনি ও দুর্বল চন্দ্র থাকে এতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

> শনি যদি লগ্ন কিংবা চন্দ্র রাশির ৫, ৭, ৯ কিংবা একাদশে থাকে তাদের মধ্যে বিষন্নতা দেখা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতার অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ে। যারা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করে তাদের হিসেব ভিন্ন।

>  শনি যদি দ্বাদশপতি সাথে অবস্থান করে কিংবা দ্বাদশে দৃষ্টি দেয় তবে তারা প্রায়ই হতাশায় ভোগে।

দ্বাদশগৃহে শনির অবস্থান মানসিক চাপ কিংবা হতাশা বাড়ায়।

>এছাড়াও অন্যান্য গ্রহগত কারণ বিচার বিশ্লেষণ করে হতাশা কিংবা বিষন্নতা সম্পর্কে জানা যায়। শুধুমাত্র একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পূর্বাভাস দেওয়া ঠিক নয়।

জন্মকালীন চন্দ্র রাশিতে যখন গোচরে শনি আসে তখন হতাশা বা মানসিক চাপ বাড়ে।

 

চন্দ্র  ও শনি যদি একত্রে থাকে তা মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বিষন্নতা দূর করতে গান শুনতে পারেন কিংবা কবিতা পড়তে পারেন। যদি ভালো লাগে গুণগুণ করে গান গাইতে পারেন কিংবা কবিতা আবৃত্তি করতে পারেন। যাদের ধর্মকর্মের প্রতি আগ্রহ আছে তারা নিয়মিত তা করতে পারেন। এছাড়াও যোগ, মেডিটেশন, বজ্রপ্রাণ কিংবা বাইরে ভ্রমণ আপনার মানসিক চাপ কিংবা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে। আপনি যা করতে পারবেন না বা করবেন না সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মাতৃসেবা করুন। পরিবারকে সময় দিন। এতে আপনি সহজেই বিষন্নতা কিংবা হতাশা থেকে মুক্তি পাবেন।